Jump to today's results
Satta Matka Global Sridevi & Kalyan Matka Result, Charts

মাটকার ইতিহাস: ষাটের দশকের বোম্বে থেকে আজকের অনলাইন বাজার

যে কোনও খেলার শব্দগুলো তার ইতিহাস বয়ে বেড়ায়। মাটকায় ওপেন আর ক্লোজ কেন বলা হয়, তিন অঙ্কের সংখ্যাকে কেন পান্না বলে, কল্যাণ নামটা এল কোথা থেকে, এসবের উত্তর লুকিয়ে আছে ষাট বছরের পুরনো বোম্বে শহরে। নিচে সেই গল্পটা পর্ব ধরে ধরে বলা হল। মাটকার ইতিহাস মূলত মুখে মুখে চলে আসা ইতিহাস; সরকারি নথি কম, তাই যেখানে সাল বা সংখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে, সেখানে মোটামুটি বা বলা হয় লিখে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম পর্ব: তুলোর দরে বাজি (পঞ্চাশের দশক থেকে 1961)

স্বাধীনতার পরের বোম্বে ছিল তুলো আর কাপড়ের শহর। বোম্বে কটন এক্সচেঞ্জে রোজ নিউ ইয়র্ক কটন এক্সচেঞ্জের দর এসে পৌঁছত টেলিপ্রিন্টারে, দিনে দুবার: বাজার খোলার দর আর বাজার বন্ধের দর। ব্যবসায়ীরা দর দেখতেন হিসাবের জন্য, কিন্তু এক্সচেঞ্জের বাইরে অন্য একটা কারবার গজিয়ে উঠল। দরের শেষ অঙ্ক কত হবে, তার উপর লোকে টাকা লাগাতে শুরু করল। এই খোলার দর আর বন্ধের দর থেকেই আজকের ওপেন আর ক্লোজ। 1961 সালে নিউ ইয়র্ক থেকে এই দর পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়, আর বোম্বের বাজিকরদের হাতে হঠাৎ কোনও সংখ্যা রইল না।

দ্বিতীয় পর্ব: হাঁড়ি আর চিরকুট (1962)

সমাধান নিয়ে এলেন কল্যাণজি ভগত, কচ্ছ থেকে আসা এক ব্যবসায়ী, যাঁর ওয়ার্লিতে মুদির দোকান ছিল। 1962 সালে তিনি চালু করলেন ওয়ার্লি মাটকা: শূন্য থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা লেখা চিরকুট একটা মাটির কলসিতে ভরা হত, আর সবার সামনে সেখান থেকে তুলে ফল জানানো হত। হিন্দি-মারাঠিতে মাটির কলসিকে মাটকা বলে; খেলার নামটা সেখান থেকেই। ভগতের বাজার সপ্তাহের সাত দিনই চলত, আর অল্প টাকার ছোট বাজি নেওয়া হত বলে শ্রমিক মহল্লায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। আজ যে বাজারটাকে সবাই কল্যাণ নামে চেনে, তার নাম এই কল্যাণজির নাম থেকেই।

তৃতীয় পর্ব: রতন খত্রী আর তাসের পান্না (1964)

দুবছর পরে, 1964 সালে, করাচি থেকে আসা সিন্ধি ব্যবসায়ী রতন খত্রী খুললেন নিউ ওয়ার্লি মাটকা। তিনি নিয়মে দুটো বড় বদল আনলেন। প্রথমত, চিরকুটের জায়গায় এল তাস: একটা প্যাকেট থেকে তিনটে তাস তোলা হত, আর সেই তিনটে তাসের সংখ্যাই হত তিন অঙ্কের পান্না (টেক্কা মানে 1, দশ মানে 0)। আজকের 220 পান্নার ধারণা এই তিন তাস থেকেই। দ্বিতীয়ত, তাঁর বাজার প্রথমে চলত সোম থেকে শুক্র, পাঁচ দিন। খত্রীর ড্র হত জনসমক্ষে, কখনও কোনও নামী লোককে দিয়ে তাস তোলানো হত, যাতে কারচুপির অভিযোগ না ওঠে। এই স্বচ্ছতার খ্যাতিতেই তিনি মাটকা কিং নামে পরিচিত হন, আর আজকের মেইন বাজার তাঁর সেই বাজারেরই উত্তরসূরি বলে ধরা হয়।

চতুর্থ পর্ব: মিলের শহরে জোয়ার (সত্তর ও আশির দশক)

পরেল, লালবাগ, ওয়ার্লির কাপড়কলের আশপাশে মাটকা হয়ে উঠল সন্ধ্যার রুটিন। দোকানের পিছনে, চায়ের আড্ডায়, পানের গুমটিতে বাজি লেখা হত ছোট চিরকুটে। বলা হয়, এই সময়ে মাসে কয়েকশো কোটি টাকার লেনদেন হত, আর শুধু বোম্বেতেই হাজার দুয়েক বুকি কাজ করত। হাতে লেখা চার্টের চল এই যুগের: খাতায় সপ্তাহ ধরে ধরে জোড়ি টুকে রাখা হত, যা আজকের জোড়ি চার্টের আদি রূপ। 1975 থেকে 1977-র জরুরি অবস্থার সময় খত্রী গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কিছু মাস জেলে ছিলেন, তবু খেলাটা থামেনি। 1982-র মিল ধর্মঘটের পর বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও নম্বরের নেশা রয়ে যায়।

পঞ্চম পর্ব: পুলিশের অভিযান (নব্বইয়ের দশক)

নব্বইয়ের মাঝামাঝি মুম্বই পুলিশ শহরের মাটকা আড্ডাগুলোয় ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে। বড় বড় আড্ডা বন্ধ হয়, বুকির সংখ্যা কয়েকশোয় নেমে আসে, আর খত্রী নিজে এই দশকেই কারবার থেকে সরে দাঁড়ান (তিনি মারা যান 2020 সালে, 88 বছর বয়সে)। কল্যাণজির মৃত্যুর পর কল্যাণ বাজারের দায়িত্ব নেন তাঁর ছেলে সুরেশ ভগত। খেলাটা মুম্বই থেকে পুরোপুরি উঠে যায়নি, কিন্তু আগের মতো খোলাখুলিও রইল না।

ষষ্ঠ পর্ব: শহর ছেড়ে, তারপর স্ক্রিনে (2000-এর পর)

অভিযানের পর কারবার ছড়িয়ে পড়ে গুজরাট, রাজস্থান আর অন্য রাজ্যে, আর নম্বর পৌঁছনোর রাস্তাও বদলে যায়। প্রথমে ফোন কল আর এসএমএস, তারপর ওয়েবসাইট। খাতায় লেখা চার্ট টাইপ হয়ে অনলাইনে উঠল, আর দূরের শহরের মানুষও ঘোষণার মিনিটখানেকের মধ্যে রেজাল্ট দেখতে পেলেন। কয়েকটা বাজারের নামের সঙ্গে ডে আর নাইট জুড়ে দিনে দুবার বসার চল হল। Satta Matka Global এই শেষ পর্বের একটা অংশ: ঘোষিত রেজাল্ট, জোড়ি ও প্যানেল চার্ট আর টাইম টেবিল এক জায়গায় রাখা, এইটুকুই এখানকার কাজ।

আজ যে বাজারগুলো চলে

বাজারকখন বসেটীকা
কল্যাণবিকেলসবচেয়ে পুরনো নাম; রবিবার বন্ধ
মেইন বাজাররাতনিউ ওয়ার্লি মাটকার ধারা
মিলন ডে / নাইটদিন / রাতএকই নামে দুটো বাজার
রাজধানী ডে / নাইটদিন / রাতএকই নামে দুটো বাজার
টাইম বাজারদিনদুপুরের দিকের বাজার
মধুর ডে / নাইটদিন / রাততুলনায় নতুন নাম
শ্রীদেবী ডে / নাইটদিন / রাতদিনের শুরুর দিকের বাজার

প্রতিটির ওপেন আর ক্লোজের মিনিট ধরে সময় আর সাপ্তাহিক ছুটি টাইম টেবিলে; হিসাবের নিয়ম সব বাজারে এক, যা বাংলা হাতেখড়ি লেখায় বোঝানো আছে।

আইন: তখন আর এখন

1867 সালের পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট আর মহারাষ্ট্রের 1887 সালের জুয়া প্রতিরোধ আইন, দুটোই মাটকার জন্মের আগের। অর্থাৎ খেলাটা কোনও দিনই আইনি ছিল না; শুধু কড়াকড়ির মাত্রা যুগে যুগে বদলেছে। আজ জুয়া রাজ্য তালিকার বিষয়, তাই এক রাজ্যের নিয়ম অন্য রাজ্যে খাটে না, কিন্তু অধিকাংশ রাজ্যেই মাটকায় বাজি ধরা অপরাধ। Satta Matka Global কোনও বাজার চালায় না, বাজি নেয় না; এখানে শুধু ঘোষিত সংখ্যার রেকর্ড। লেখাটা আঠারো বছরের উপরের পাঠকদের কথা ভেবে লেখা। ইতিহাস জানলে শব্দগুলো বোঝা সহজ হয়, কিন্তু ইতিহাস কাউকে আগামী কালের সংখ্যা চেনায় না। আরও প্রশ্ন থাকলে বাংলা প্রশ্নোত্তর পাতাটি দেখুন, আর চার্ট পড়তে শিখতে চার্টের নিয়ম লেখাটি।

কল্যাণ বাজারের নাম কার নামে?

কল্যাণজি ভগতের নামে, যিনি 1962 সালে ওয়ার্লি মাটকা চালু করেছিলেন। কচ্ছ থেকে আসা এই ব্যবসায়ীর ওয়ার্লিতে মুদির দোকান ছিল, আর তাঁর বাজার সপ্তাহের সাত দিনই বসত। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে সুরেশ ভগত বাজারটি চালাতেন। আজকের কল্যাণ বাজার নামে সেই ধারাটাই বয়ে চলেছে, যদিও এখন তার সময় আর নিয়ম টাইম টেবিলে যা লেখা তাই।

মাটকা কিং বলতে কাকে বোঝায়?

রতন খত্রীকে। 1964 সালে তিনি নিউ ওয়ার্লি মাটকা চালু করেন, চিরকুটের বদলে তাস তুলে তিন অঙ্কের পান্না ঘোষণার নিয়ম আনেন, আর ড্র জনসমক্ষে করাতেন বলে তাঁর কারবারের সততার নাম ছড়িয়েছিল। জরুরি অবস্থার সময় জেল খাটেন, নব্বইয়ের দশকে অবসর নেন আর 2020 সালে মুম্বইয়ে মারা যান।

আজও কি কলসি বা তাস থেকে নম্বর ওঠে?

না। কলসি আর তাস, দুটোই সেই প্রথম যুগের কায়দা। এখন এক একটা বাজার নিজস্ব ব্যবস্থায় ওপেন আর ক্লোজ ঘোষণা করে, আর সেই ঘোষণাই ওয়েবসাইটে তোলা হয়। এই সাইট কোনও ড্র করে না, শুধু ঘোষিত সংখ্যা লিখে রাখে। নামটা পুরনো রয়ে গেছে, পদ্ধতি বদলে গেছে।

ওপেন আর ক্লোজ শব্দ দুটো কোথা থেকে এল?

নিউ ইয়র্ক কটন এক্সচেঞ্জের দুটো দর থেকে: খোলার দর (ওপেনিং রেট) আর বন্ধের দর (ক্লোজিং রেট)। 1961 পর্যন্ত বোম্বেতে ওই দুটো দরের শেষ অঙ্কের উপর বাজি চলত। দর আসা বন্ধ হওয়ার পর কলসির ড্র এল, কিন্তু দিনে দুবার ঘোষণার অভ্যাস আর দুটো শব্দ থেকে গেল।